৫৬ বছর বয়সী ওমর আবদুল্লাহ ও ৪৯ বছর বয়সী প্রবীণ টেলিভিশন সাংবাদিক নিধি রাজদান ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর দিল্লির একটি আদালতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের (Special Marriage Act) অধীনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৩১ অক্টোবর তারা দুজনেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ ছবি শেয়ার করে এই বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন, যেখানে ওমর আবদুল্লাহ লেখেন "গতকাল থেকে একটি নতুন যাত্রা শুরু হলো..." এবং নিধি রাজদান রসিকতা করে রিটুইট করেন "ইটস ডান ব্রো" (It's done bro)।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ প্রেম প্রসঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন এবং তিনি প্রেমে গভীরভাবে বিশ্বাস করেন। সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্রের সাথে একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে প্রেমের অস্তিত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, "মানুষ হয়ে কীভাবে আপনি প্রেমে বিশ্বাস না করে থাকতে পারেন?

প্রেম ও তার নতুন জীবন নিয়ে ওমর আবদুল্লাহ জানান যে ভালোবাসার অনেক রূপ রয়েছে এবং এটিকে কেবল একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় বেঁধে রাখা যায় না। তার মতে, এটি সবচেয়ে বহুমুখী অনুভূতি, যা রোমান্টিক সম্পর্কের পাশাপাশি বন্ধুত্ব, অভিভাবকত্ব বা দেশপ্রেমের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে। তিনি রসিকতা করে বলেন যে বয়স কোনো বিষয় নয়, সাহচর্যের মধ্যেও ভালোলাগার সেই বিশেষ অনুভূতি বা 'প্রজাপতি ওড়ার মতো অনুভূতি' (butterflies) থাকা উচিত।তিনি উল্লেখ করেন যে মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন সে ভালো শ্রোতা হয়ে ওঠে এবং তার রাগও কিছুটা কমে যায়।

সাধারণ মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই নতুন সূচনার প্রশংসা করছেন, কারণ দীর্ঘ ১৫ বছর আলাদা থাকার পর ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে ওমর আবদুল্লাহ এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী পায়েল নাথের বিবাহবিচ্ছেদ আইনি স্বীকৃতি পায়। মানুষের একটি বড় অংশ মনে করছে, জীবনের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের বেড়াজাল পেরিয়ে তাঁদের এই ভালোবাসার পরিণতি অত্যন্ত ইতিবাচক।

একদিকে যেমন শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে, অন্যদিকে কিছু কট্টরপন্থী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব (যেমন বেরেলভির একজন মৌলভি) শরিয়া আইনের প্রসঙ্গ টেনে এই বিয়েকে অবৈধ বলে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করেছেন। এছাড়া, কিছু রাজনৈতিক সমালোচক এবং বিরোধী নেটিজেন কাশ্মীরের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক কটাক্ষ করছেন।
সামগ্রিকভাবে, সাধারণ মানুষ ও তাঁদের অনুগামীরা এই জুটির পরিপক্ব প্রেম ও ছিমছাম বিয়ের সিদ্ধান্তকে বেশ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন। ধর্মের উর্দ্ধে গিয়ে ভালোবাসা স্হায়ী হোক।

টুম্পা পাল 🖋️