আতশবাজি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের পরই উদ্ধার বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ বাজি, ধৃত এক

বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ

দিন কয়েক বাদেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কালীপূজো। ওই সময় আনন্দ উদযাপন করতে বাজি পড়ানোর হিড়িক পড়ে প্রায় সকলের মধ্যে। বাজির কারণে বহু দূর্ঘটনাও ঘটে। তাই দূর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের তরফে বৈঠক করে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরই সূত্র অনুযায়ী একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে হানা দিয়ে মজুত রাখা বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটিকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কলকাতার বড়বাজার থানার এন এস রোড এলাকার ঘটনা।
উল্লেখ্য, রাজ্যে কালীপূজোর প্রস্তুতি, আতশবাজি সংক্রান্ত বিষয়ে নজরদারি চালানোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ। স্বরাষ্ট্রসচিব ছাড়াও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধ নাথ গুপ্তা, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ সহ দমকল ও পরিবেশ দপ্তরের আধিকারিকেরা। বৈঠকে আতশবাজি পোড়ানোর উপর ৫ ধাপে নজরদারির কথা জানানোর পাশাপাশি বেআইনি বাজির ব্যবসার ক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রসচিবের কথায়, বাজি পোড়ানোর ফলে বায়ু ও শব্দ দূষণের প্রভাব শুধু অন্যের উপরেই পড়ে না। এতে যিনি বাজি পোড়ান, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি হতে পারে। বাজির শব্দ ও ধোঁয়ার জন্য বিশেষত শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি সমস্যায় পড়েন। তাই হাসপাতাল, নার্সিংহোম, স্কুল এবং বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি না পোড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। পূজো কমিটি, আবাসন এবং সাধারণ নাগরিকদের এই নীরব এলাকা বজায় রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শুধু প্রশাসনের নজরদারি বা আইনের প্রয়োগের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন তিনি। জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দীপাবলিতে রাত আটটা থেকে দশটা এবং ছট্ পূজায় ভোর ছটা থেকে সকাল আটটা- এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই বাজি পোড়াতে হবে। শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল, আলোর বাজির ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেল এর মধ্যে রাখতে হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বাজির বদলে অনুমোদিত সবুজ বাজি ব্যবহার করলে দূষণ কমানোর পাশাপাশি নির্ধারিত বিধি মেনে চলা সহজ হবে বলে তাঁর দাবি। বাজির বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরসভা, পুলিশ ও দমকল যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি। তিনি এও বলেন, দোকানগুলি জনবসতি থেকে দূরে নির্দিষ্ট জায়গায় পর্যাপ্ত দূরত্ব, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ও অ্যাম্বুলেন্স এর সুবন্দোবস্ত রেখে বাজার বসাতে হবে। বাজি তৈরির কারখানা, মজুতের জায়গা এবং বিক্রির কেন্দ্রগুলিতে পরিদর্শন চালানো হবে। উৎসবের দিনগুলিতে বাড়ানো হবে পুলিশি টহলও।
রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কথায়, বাজি তৈরি, মজুদ, পরিবহন, বিক্রি ও ব্যবহার- সব ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও বেআইনি বাজি তৈরি বা বিক্রি কিংবা নির্ধারিত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এলে বাজি বাজেয়াপ্ত এবং গ্রেফতারের মতো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ জানানোর জন্য পুলিশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরও শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। ফানুস ওড়ানো প্রসঙ্গে ডিজি জানান, প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস ওড়ানো যাবে না। দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট আইন কঠোর ভাবে কার্যকর করা হবে।
বৈঠক শেষ হতেই বড়বাজার থানা এলাকা থেকে নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার এর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সূত্র মারফত এন এস রোড এর একটি পরিত্যক্ত আবাসনে বেআইনি আতশবাজি মজুতের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে কার্টনবন্দি অবস্থায় প্রায় ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকেই ১৯ বছরের মহম্মদ তৌফিক নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনায় এসআই উত্তম কুমার হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয় বড়বাজার থানায়। উদ্ধারকৃত বাজিগুলো পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে কে বা কারা কখন কিভাবে রেখেছিল, ধৃত যুবকই বা সেখানে কি কারণে গিয়েছিল- তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানায় পুলিশ।