আইএস জঙ্গি সন্দেহে ধৃত ৩
বৈশাখী সাহা,উত্তর ২৪ পরগনাঃ
কলকাতায় গা ঢাকা দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠির কিছু সদস্য। গোপন সূত্র মারফত এমন খবর পেয়ে অভিযানে নেমে ৩ জনকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকার রাজডাঙ্গা রোডে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সূত্র মারফত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা খবর পায়, আইএস জঙ্গী সংগঠনের কিছু লিঙ্ক ম্যান কলকাতায় আত্মগোপন করে রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই দিল্লি থেকে গোয়েন্দাদের একটি বিশেষ টিম কলকাতায় এসে পৌঁছায়। নানারূপ খোঁজখবর চালিয়ে তারা জানতে পারে, কসবা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সন্দেহ জোরালো হতেই দুটি ল্যাপটপের আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে তদন্তে নেমে রাজডাঙ্গার একটি ফ্ল্যাটে পৌঁছায় গোয়েন্দারা। সেখানে হানা দিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারে, এলাকায় নিজেদের আইটি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে, একজন ভিন রাজ্যবাসী সহ মোট ৩ জন যুবক ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। ফ্ল্যাটে তল্লাশির সময় যুবকদের কাছে থাকা ২টি ল্যাপটপ নিয়ে পরীক্ষা করতে শুরু করেন তাঁরা। পরীক্ষা করে একাধিক সন্দেহজনক নথির সন্ধান মেলে। এরপর ওই নথি সংক্রান্ত বিষয়ে ফ্ল্যাটের ভিতরেই ৩ যুবককে জেরা করতে শুরু করে গোয়েন্দারা। কিন্তু তাঁদের উত্তরে বিপুল পরিমান অসঙ্গতি থাকার পাশাপাশি, সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ইসলামিক স্টেট আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে ধৃতদের যোগ রয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে গোয়েন্দারা। তাঁদের কথায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে আইএস জঙ্গি সংগঠন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও নিজস্ব গ্রুপ তৈরী করে ভারতে সন্ত্রাসবাদী নিয়োগের ছক কষছে তারা। মগজ ধোলাইয়ের জন্য বিভিন্ন পেশার আড়ালে থাকা আইএস স্লিপার সেলের সদস্যরা প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়া মারফত সাধারণ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে। যারা সহজে প্রভাবিত হয়, তাঁদের ওই বিশেষ গ্রুপে যুক্ত করে। পরবর্তীতে ওই গ্রুপে যুক্ত ব্যাক্তিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। গোয়েন্দাদের মতে, ওই তিন যুবকও সেই একই পদ্ধতির শিকার। শুধু মগজ ধোলাই নয়, তারাও হয়তো অন্যদের প্রভাবিত করার কাজ শুরু করেছিল- এমনটাই গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধৃতদের সঙ্গে আর কারা, কোথা থেকে কিভাবে জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংগঠন।