আইবি-র স্ক্যানারে বিরাটি থেকে ধৃত আজাদ
বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ
পাসপোর্ট জালিয়াতি কান্ডে কলকাতার বেকবাগান, বিরাটি, গেদে সহ একসঙ্গে আট জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। অভিযান চালিয়ে ওইদিন রাতেই উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি থেকে পাসপোর্ট কান্ডে জড়িত বাংলাদেশী সন্দেহে আজাদ মল্লিক নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করে ইডি। জেরা করে ইডির আধিকারিকরা জানতে পারে, বাংলাদেশী নয়- সে আসলে পাকিস্তানের নাগরিক। ইডি সূত্রে জানা যায়, ধৃত ১২ বছর যাবত বাংলায় রয়েছে। বাংলায় ঢুকে প্রথমেই রেশন কার্ড বানায় সে। এরপর তার ভিত্তিতে ভোটার কার্ড তো বটেই, আধার কার্ড এমনকি ভুয়ো ড্রাইভিং লাইসেন্সও বানিয়ে ফেলে সে। আজাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল মধ্যমগ্রাম ও নৈহাটি নামক এ রাজ্যের পৃথক দুটি এলাকার ভোটার কার্ড। বারংবার তাতে নাম বদল করে, বাংলায় বসবাস করছিল আজাদ। রবিবার ধৃতকে আদালত মারফত নিজেদের হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জেরা করে তদন্তকারীরা। জেরায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতের মোবাইল ঘেঁটে তাতে বহু পাকিস্তানির কন্টাক্ট নম্বর পায় ইডি। সেখানে পাকিস্তানের করাচির একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের হদিস মিলেছে বলে দাবি ইডি-র। ১৯৯৭ সালে করাচির ঠিকানায় রয়েছে সেই লাইসেন্স। আর তা থেকে স্পষ্ট যে, আজাদ পাকিস্তানেরই নাগরিক। ২০১৯ সালে বাংলাদেশী পাসপোর্ট এর মাধ্যমে ভিসার আবেদনও করেছিল সে। ধৃতের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা বলে দাবি ইডি-র। হাওয়ালা যোগে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই টাকা কোথায় কি কাজে ব্যবহৃত হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানায় ইডি। ইডি, এনআইএ-র পর এবার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর নজরে আজাদ মল্লিক। বাংলায় ঢুকে, নাম পরিচয় পাল্টে এতদিন যাবত বসবাস করা ওই পাক নাগরিকের কোনও বিশেষ অভিসন্ধি ছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
ইতিমধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকে ধৃত পাক নাগরিকের সম্বন্ধে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ধৃত ওই পাক নাগরিক বাংলায় ঢুকে কেন কিভাবে এত নথি বানিয়েছে, তাঁর ওই নথি তৈরীর সাথে কে বা কারা যুক্ত, বাংলার বুকে বসে জাল নথি বানানোর পিছনে তাঁর কি অভিসন্ধি রয়েছে, কোনও বড়সড় নাশকতার ছক কষছিল কি সে? তার ওই পুরো কর্মকান্ডের সাথে আর কে বা কারা কোথা থেকে কিভাবে যুক্ত, উঠে এসেছে এমনই নানান প্রশ্ন। দেশের সুরক্ষার জন্য আজাদের ওইরূপ কর্মকাণ্ড, এক কথায় উদ্বেগজনক- এমনটাই জানান তদন্তকারীরা।