অপহরণ করে জমি আত্মসাৎ, ধৃত চার

অপহরণ করে জমি আত্মসাৎ, ধৃত ৪

বৈশাখী সাহা,উত্তর ২৪ পরগনাঃ
বর্তমানে প্রায় সকল মানুষ যেন প্রতিহিংসাপরায়ন মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। কাকে কিভাবে ঠকিয়ে, বা হত্যা করে তাঁর সবটা আত্মসাৎ করে, সীমিত সময়ে ধনী হওয়া যায়, তাঁর পরিকল্পনায় মগ্ন হয়ে উঠেছে কিছু লোভী, স্বার্থান্বেষী মানুষেরা। তার দৃষ্টান্ত প্রায়শই উঠে আসে সংবাদমাধ্যমের পর্দায়। তেমনই এক প্রতারণামূলক ঘটনা তুলে ধরা হল। এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে চলে মারধর, এরপর সীমিত কিছু অর্থের বিনিময়ে তাঁর বিপুল মূল্যের জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগ জমা পড়ে থানায়। ঘটনায় নাম জড়ায় এক পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমে ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার ঘোলা থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় যোগেন্দ্রনগরের বাসিন্দা সঞ্জীব সমাদ্দারের সেলাই মেশিনের ব্যবসা। যোগেন্দ্রনগরে তাঁর নিজস্ব জমিও রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। রিয়াজুল হক নামে এক ব্যাক্তির সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। সেই সূত্রে রিয়াজুল প্রায়শই তাঁর কাছে টাকা পাবে বলে দাবি করত। যা নিয়ে ২ জনের মধ্যে বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, ২২ শে এপ্রিল রাত আটটা নাগাদ সঞ্জীবকে ফোন করে মুড়াগাছায় ডেকে নিয়ে যায় রিয়াজুল। সেখান থেকে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় মৃণাল খানের কারখানায়। সেখানে বিলকান্দা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যার স্বামী পরিমল হালদারের নেতৃত্বে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি ২ লক্ষ টাকাও দাবি করা হয় সঞ্জীবের কাছে। কিন্তু তিনি তা দিতে অক্ষম জানালে, পুনরায় তাঁকে বেধড়ক মারধর করে, নিয়ে যাওয়া হয় পাশের একটি নির্মীয়মান বাড়িতে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রাতভর তাকে বেঁধে রাখা হয় সেখানে। এরপর সঞ্জীবের সেই ৩৫ লক্ষ টাকা দামের জমি মাত্র ১৭ লক্ষ টাকায় রফা করে, ২৩ তারিখ সকালে সীমিত সময়ের মধ্যেই দলিল তৈরি করে সঞ্জীবকে দিয়ে সই করিয়ে জমিটি আত্মসাৎ করে তাঁকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর বৃহস্পতিবার সঞ্জীব ঘোলা থানায় গিয়ে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে, একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার রাতে পরিমল হালদার, মৃনাল খান, রিয়াজুল হক ও মিঠুন বিশ্বাস নামে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা সহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও ছড়িয়ে পড়ে আলোড়ন। কারণ পরিমল হালদার একজন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য। বর্তমানে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা তারই স্ত্রী। অন্যদিকে পরিমলের ছেলে বর্তমানে নিউ ব্যারাকপুর থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার। এ প্রসঙ্গে ব্যারাকপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও খড়দহ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শুকুর আলী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করলেও, পরিমল হালদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ঘোলা থানার পক্ষ থেকে ধৃতদের শুক্রবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ।

About Author

error: Content is protected !!