রাতে পোস্টার ছিড়ে তাণ্ডব। সারাদিন ধরে মোটর ভ্যানের দাপাদাপি

*রাত্রে পোস্টার ছিঁড়ে তান্ডব পঞ্চপান্ডবের*
*সারাদিন ধরে মেশিন ভ্যানের দাপাদাপি*

ফের দাপাদাপি করছে মেশিন ভ্যান। সারাদিন ধরে চলছে মাটি, ইঁট, বালি, চিপস বওয়ার কাজ। মহিষাদল মাস্টারপাড়াতে মেশিন ভ্যানের আওয়াজ ও বাড়বাড়ন্তে কিছু দিন আগে বাসিন্দারা সোচ্চারে নামেন। সমাজ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন এগিয়ে আসেন। মহিষাদল থানার উচ্চ পদস্থ আধিকারিকের নির্দেশে এবং বিএলআরও দপ্তরের হস্তক্ষেপে পল্লীতে মেশিন ভ্যানে মালপত্র নিয়ে যাতায়াত এবং বে আইনিভাবে অন্যের জলনিকাশি বন্ধ করে উঁচু করে নিজের ইচ্ছে মতো মাটি ভরাট করা কড়াভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পল্লীবাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতদিন মেশিন ভ্যান চলাচলে রাস্তায় চলা যাচ্ছে না। প্রতিদিন বাচ্ছাদের নিয়ে স্কুলে গাড়িতে তুলতে যেতে হয়। রাস্তার ধারে জড়ো করা বালি, মাটি এবং মেশিন ভ্যানে বাহিত মালপত্র র ধুলোয় রাস্তার ধারের বাড়িগুলোতে থাকা একান্ত দায় হয়ে যাচ্ছে। উঁচু করে মাটি ভরাট করায় প্রতিবেশির জলনিকাশি বন্ধ হচ্ছে। ঘ্যাড়ঘ্যাড়ানি আওয়াজ ও ধুলো-বালিতে সিনিয়র সিটিজেন, বাড়ির অসুস্থ মানুষজনরা অতিষ্ট হয়ে উঠছেন। এলাকার কোচিং সেন্টার, ছাত্র ছাত্রীদের মেসের আবাসিকদের পড়াশুনো দারুণভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

রঙ্গিবসান পশ্চিম পল্লী সম্মিলিত মাস্টারপাড়ার পল্লীবাসিন্দারা গণ স্বাক্ষর অভিযান করেছেন। সেইসঙ্গে রঙ্গিবসান বটতলা থেকে অরণ্য নার্সারী সরকারি পিচ রাস্তা অবধি পোস্টারিংও করেছেন। এলাকার সব রাজনৈতিক দলকে মৌখিকভাবে আপত্তি জানানো হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা নতুন ড্রেনে পাতলা প্লেটগুলোর উপর দিয়ে ভারী গাড়ি চলাচলে বন্ধ করার কড়া নির্দেশ অমান্য করে চলছে এইসব অসামাজিক কাজ। এহেন বারণ সত্বেও চলছে সারাদিন ধরে চলছে দুস্কর্ম। রাতের অন্ধকারে মদ খেয়ে চলছে বাড়ি ও মেস গুলির আবাসিকদের উপরে হুমকি। বাড়ি মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে বিভিন্ন জায়গায় টাঙানো স্বামী রামদেব, কবি সুকুমার রায়ের ফ্লেক্সগুলিকে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। উপড়ে ফেলা হচ্ছে প্রচার আবেদন এর পোস্টারগুলিও। রক্ষা পাচ্ছে না দেওয়ালে আঁকা মহিষাদল এর হেরিটেজ ছবিগুলিও। গোপাল জী মন্দির আঁকা চিত্রে এবং সারা দেওয়াল জুড়ে জুতোর ছাপ মারা হয়েছে। ঢালাই রাস্তা, নতুন ড্রেনের প্লেটগুলো দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অল্প কিছুদিন সাময়িক বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে অসামাজিক কাজ। কিছু প্রভাবশালী অসামাজিক মানুষের প্ররোচনায় ইন্ধনে বাড়বাড়ন্তে এইসব কাজ দিনে -রাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

এই মুহূর্তে পুনরায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন বাসিন্দারা। তাঁরা আবেদন করছেন, যে বা যাঁরা বারবার এসব করছে, সেই দালালচক্র, অসামাজিক লোকজনের শাস্তি হোক। পরিবেশ সুস্থ ও সুন্দর রাখতে দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতার আবেদন করছেন বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, এই অসামাজিক কাজ ও আচরণ-হুমকি বন্ধ না হলে পল্লীতে আগামীদিনে বড়োসড়ো বিপদ আসতে চলেছে।

About Author

error: Content is protected !!