বিক্ষোভ

পথ দূর্ঘটনায় মৃত্যুকে ঘিরে বিক্ষোভ, গণপিটুনির আতঙ্কে পলাতক পুলিশ

বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ
বাসে ওঠার মুহূর্তেই সজোরে লরির ধাক্কা বাসের পিছনে। বেসামাল হয়ে পড়ে গিয়ে বাসেরই চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ২ জন ব্যাক্তির। দূর্ঘটনাটি ঘটার পরই স্থানীয়রা পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দেবার বদলে প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুলিশ। তড়িঘড়ি পুলিশ কিয়ক্স বন্ধ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তাঁরা। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত মহকুমার দমদম বিমানবন্দর থানার অন্তর্গত বিমানবন্দর সংলগ্ন মাইকেল নগর এলাকার যশোর রোডে রবিবার রাতে এমন ঘটনাই ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, এদিন রাত ন’টা নাগাদ বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে মাইকেল নগর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েছিলেন দু’জন ব্যাক্তি। সময় অনুযায়ী সাঁতরাগাছি-বারাসাত রুটের একটি বাস সেখানে এসে দাঁড়ালে, তাঁরা দুজনেই ওই বাসে উঠতে যান। ঠিক সেই সময় আচমকা একটি ট্রাক বাসটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান তাঁরা। এরপর ওই বাসেরই পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। রক্তে ভেসে যায় রাস্তা। দেহ দুটি বারাসাত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃত ২ ব্যাক্তি নিউ ব্যারাকপুর এলাকার বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যে কাকলি শর্মা দেবনাথ নামে এক মহিলা, আয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। অপর ব্যাক্তি অজ্ঞাত পরিচয় একজন পুরুষ। এদিন দূর্ঘটনাটি ঘটার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা এও জানান, এয়ারপোর্ট ট্রাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে যশোর রোডে আড়াআড়িভাবে রাখা লোহার ব্যারিকেড বিক্ষোভকারীরা রাস্তা থেকে তুলে পাশের নয়ানজুলিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মাইকেল নগরে থাকা ট্রাফিক কিয়ক্সে কর্তব্যরত ট্রাফিক গার্ড ও সিভিক পুলিশ কর্মীরা সেই সময় পালিয়ে যায়। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার বেশ কিছু সময় পর বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১২ টা নাগাদ দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে মৃত কাকলির পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যশোর রোডের পাশে রয়েছে সার্ভিস রোড। সেখানে অবৈধ পার্কিং এর নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করা হয়। বাইক থেকে শুরু করে বড় গাড়ি, পুলিশ আটকে টাকা নেবেই। টাকা না দিলে যে কোনও কেস দেয় পুলিশ। রাত হলেই ট্রাক থেকে তোলা আদায়ের জন্য যশোর রোডে লোহার ব্যারিকেড লাগিয়ে যাতায়াতের রাস্তা ছোট করে দেওয়া হয়। ট্রাক যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, কেবল সেদিকেই নজর এয়ারপোর্ট ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকদের। স্বভাবতই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে নাজেহাল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় পথচলতি মানুষদের। এর ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে এলাকায়। তাঁদের কথায়, এদিনের দুর্ঘটনার জন্য পুরোপুরি দায়ি এয়ারপোর্ট ট্রাফিক গার্ডের তোলাবাজ কর্মী ও সিভিক ভলেন্টিয়াররা। যশোর রোড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষের কাছে। সেই রাস্তা ব্লক করে, নিজেদের পকেট ভরার জন্য তোলাবাজি বন্ধ করে পথচলতি মানুষ সহ যানবাহন যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সেদিকে নজর দিক পুলিশ প্রশাসন। নইলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে – এমনটাই দাবি বিক্ষোভকারীদের। এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি অবশ্য সম্পূর্ণ বিষয়টি অস্বীকার করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত দেখা যাচ্ছে, পুলিশের উপর নানান কারনে জনসাধারণের ক্ষোভ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের হাতে পিটুনি খাচ্ছে পুলিশ কর্মীরা। জনরোষের কবলে পড়ে কত পুলিশ কর্মীর প্রাণ অকালে ঝড়ে গেছে। নানান স্থান থেকে এমন বহু দৃষ্টান্ত জনসম্মুখে প্রায়শই ধরা পড়ে। পুলিশ প্রশাসন যদি এখনও সচেতন না হয়, এমন কর্মকান্ড চালাতে থাকলে এক সময় ক্ষিপ্ত জনগণের রোষের কবলে পড়ে বেসামাল পরিস্থিতির শিকার হতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে- এমনটাই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

About Author

error: Content is protected !!