হুমায়ুনকে নজরে রাখতে পুলিশের স্পেশাল টিম গঠন করল ভবানী ভবন
বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ
মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদ তৈরীর কথা বলে ক্রমাগত বিতর্কে জড়িয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রাজভবন থেকে রাজ্যপাল ‘সিভি আনন্দ বোস’ রাজ্য প্রশাসনকে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এবার তাঁকে বহিষ্কার করেছে দল। বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি ঘোষণা করেন ফিরহাদ হাকিম। বিষয়টি জানতে পেরে একপ্রকার হুমকির সুরে নানাবিধ মন্তব্য পেশ করেন তিনি। তাতে রাজ্য তথা দেশের অভ্যন্তরে আশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হবে এমন আশঙ্কায়, বাছাই করা কিছু পুলিশ অফিসারদের নিয়ে এদিনই একটি ‘স্পেশাল টিম’ গঠন করেছে ভবানী ভবন। তাঁরা মূলত সাদা পোশাকে ওই বহিষ্কৃত বিধায়কের গতিবিধির উপর কড়া নজরদারি চালাবে বলে খবর। এদিকে এদিন বহরমপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সভা করেন। সেই সভায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টই জানান, নতুন করে মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা বা অশান্তি সৃষ্টি করে এনআইএ-কে দিয়ে মামলা করিয়ে, মুর্শিদাবাদের ছেলেমেয়েদের হেনস্থা করতে তিনি দেবেন না। সেখানে উপস্থিত থাকাকালীন বহিষ্কারের বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সেই সভাস্থল ত্যাগ করেন ভরতপুরের বিধায়ক। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরই হুমকির সুরে তিনি জানান, শুক্রবারই তিনি বিধায়ক পথ থেকে ইস্তফা দেবেন। আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ও ২২ ডিসেম্বর নতুন দল গঠনের কথা ঘোষণা করবেন। এদিন কার্যত রাজ্য প্রশাসনকে তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তবে মুর্শিদাবাদ এর বর্তমান পরিস্থিতি এবং তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া বিধায়কের হুমকি ও তাঁর কার্যকলাপের উপর আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি গোপন রিপোর্ট রাজ্যকে পাঠানো হয় ভবানী ভবনের পক্ষ থেকে। রিপোর্টে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নাম উল্লেখ করে জানানো হয়, তাঁদের মোটা অঙ্কের অর্থ পাঠিয়ে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচির নেপথ্যে বড়সড় অশান্তি পাকানোর ছক কষা হয়েছে। যে কোনও উপায়ে অশান্তি পাকিয়ে দেশের অভ্যন্তরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৬ ডিসেম্বর যে এলাকায় বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন হুমায়ুন কবীর, সেই এলাকায় আইন শৃঙ্খলা সুস্থ রাখতে প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা অর্থাৎ বর্তমান আইনের ধারা অনুযায়ী বিএনএস ১৬৩ জারি করা হতে পারে। ৫ ডিসেম্বর গভীর রাত থেকেই ভরতপুরে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, তৃণমূল ধর্মনিরপেক্ষ দল। গণতন্ত্র ও সর্বভৌমত্বে বিশ্বাস রাখে এই দল। ঘৃণার রাজনীতি সহ্য করবে না তৃণমূল। সর্ব ধর্ম মিলে একসাথে চলা, কাজ করাই বাংলার সংস্কৃতি। আসলে সমাজকে ভাগ করার অভিসন্ধি করছে বিজেপি। তাঁরা প্রতিবারই ভোটের আগে তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করে। এবার হুমায়ুন কবীরকে টার্গেট করেছে বলে জানান তিনি। তার কথায়, বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয় না তৃণমূল। যারা বিভাজনের রাজনীতি করছেন, তৃণমূলে তাঁদের কোনও জায়গা নেই। বাংলা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। পূর্বে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করলেও, তিনি সে কথা শোনেননি। নতুন করে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। শেষমেশ দলের ঊর্ধ্বতম নেতৃত্বের মতামত নিয়ে হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের সঙ্গে তাঁর আর কোনও সম্পর্ক থাকবে না। ধর্ম নিয়ে যারা ভাগাভাগি করে, তাদের সঙ্গে দল কোন সম্পর্ক রাখবে না বলে জানান তিনি। এদিকে ‘পুলিশের স্পেশাল টিম’ হুমায়ুনের সমস্ত বক্তব্য এবং তাঁর গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর।