পৃথক দুটি অর্থিক প্রতারণা, গ্রেফতার ২
বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ
প্রতারকদের দৌড়াত্ম্য ক্রমশই বেড়ে চলেছে। নানান পন্থা অবলম্বন করে তাঁরা প্রতারণার জাল বিছিয়ে রেখেছে সর্বত্র। তাঁদের জালে পা দিয়ে, অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে সাধারণ মানুষ। আর মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগী হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এমনই ঘটনা ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের পর্দায়। পৃথক দুটি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে, পৃথক স্থান থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কলকাতার বাগুইআটি থানা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার বিধাননগর পূর্ব থানার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৮ই জানুয়ারি বাগুইআটি থানায় একটি অভিযোগ জমা পড়ে এই মর্মে যে, বাগুইআটি এলাকায় একটি ব্র্যান্ডেড কোম্পানির প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির নাম করে মোট ৪৪ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সল্টলেকের মহিষবাথান এলাকা থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা বলে জানায় পুলিশ। অন্যদিকে নিজেকে ব্যাঙ্ককর্মী পরিচয় দিয়ে এক বয়স্ক ব্যাক্তিকে ফোন করে এক যুবক। যুবকের কথা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ নথি শেয়ার করতেই ১৬ লক্ষ টাকা খোয়ায় সেই ব্যাক্তি। পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে, ২১ ফেব্রুয়ারি সল্টলেকের বিধাননগর পূর্ব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে বিহারের পাটনা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সামগ্রী। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে সল্টলেকে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে বিধাননগর আদালত মারফত নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। পৃথক ঘটনায় ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের কথায়, বর্তমানে প্রবীণ নাগরিকরা প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে। এখন পুলিশের লক্ষ্য, জনগণকে সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করে প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করা। তাই নানান সময় কর্মশালার মাধ্যমে সাইবার প্রতারণা রোধে ও প্রবীণ নাগরিকদের সচেতন করে চলেছে পুলিশ।