দীর্ঘ টালবাহানার পর উদ্ধার ঝুলন্ত যুবকের দেহ
বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ
রেল লাইনের ধারে থাকা একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির দেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দেয় পুলিশকে। কিন্তু ঝুলন্ত দেহটি কোন থানার আওতায় তা নিয়ে ৩ টি থানার মধ্যে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও দেহটি উদ্ধার না হওয়ায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। শেষমেশ রেলওয়ে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে। উত্তর ২৪ পরগনার দমদমের বেদিয়াপাড়ার ৩০এ বাসস্ট্যান্ড এবং দমদম স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ১ নম্বর রেল লাইনের ধারে ঘটনটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ দমদমে রেল লাইনের ধারে একটি গাছে একটি দেহ ঝুলতে দেখে স্থানীয়রা। থানায় খবর দেওয়া হয়। সারা রাত পেরিয়ে যাবার পর ভোর হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মঙ্গলবার সকাল পেরিয়ে দুপুর হতে চললেও দেহ নামায় না পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যা থেকে দেহটি ওভাবেই ঝুলতে থাকে গাছে। স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশে খবর দেওয়া হলেও তাঁরা ঢিলেমি করে। এলাকাটি কার আওতায় তা নিয়ে সিঁথি থানা, দমদম জিআরপি ও নাগের বাজার থানার মধ্যে চলে দ্বন্দ্ব। দ্বন্দ্ব না মেটায় দেহ গাছ থেকে নামাতে বহু দেরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। স্বভাবতই তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে দুপুর হবার আগেই দমদম জিআরপি দেহটি উদ্ধার করে সিঁথি থানায় দেহটিকে হস্তান্তর করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত যুবক উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার দেগঙ্গা ব্লকের বাসিন্দা ২৬ বছরের প্রশান্ত সাহা। স্থানীয়দের তরফে হত্যা করে দেহটি ওই স্থানে ঝুলিয়ে রাখার দাবি জানালেও, আত্মহত্যার ঘটনা বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের অনুমান। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয় সিঁথি থানার পক্ষ থেকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রশান্ত রান্নাঘরের চিমনি মেরামতের কাজ করত। বিগত সাত দিন যাবত তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরিও করা হয়েছিল যুবকের পরিবারের তরফ থেকে। বুধবার সকালে দেহটি মৃতের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় সিঁথি থানার পক্ষ থেকে। প্রশান্তের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নামে শোকের ছায়া।