স্ত্রীকে হত্যার মামলায় দোষী কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ

স্ত্রীকে হত্যার মামলায় দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ

বৈশাখী সাহা,কলকাতাঃ

স্ত্রী-র উপর শারীরিক নির্যাতন পরিশেষে হত্যা করার অভিযোগ, দীর্ঘ ৮ বছর মামলা চলার পর দোষীকে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্যমগ্রামের নন্দনকানন বেলতলার বাসিন্দা ৩৭ বছরের রিপন দাস তাঁর স্ত্রী পিংকি দাস ও একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। নিত্যদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সংসারিক বিবাদ লেগেই থাকতো। ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল বাড়িতে রান্নার গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় পিংকি রিপনকে সিলিন্ডার আনতে বললেও, রিপন তা না শোনায় দম্পতির মধ্যে শুরু হয় অশান্তি। এরপর রাতে মদ্যপান করে বাড়ি ফিরে পুনরায় ওই বিষয় নিয়ে অশান্তি শুরু করে রিপন। বাকবিতন্ডার মধ্যে স্ত্রীকে মারধর করে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল রিপন। সে সময় সম্পূর্ণ ঘটনাটির সাক্ষী ছিল তাঁদের আট বছরের কন্যা সন্তান। অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ পিংকির কাতর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বারাসাত হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু ১২ই এপ্রিল সকালে মৃত্যু হয় বধূর। এরপর মধ্যমগ্রাম থানায় মৃতার মায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয় রিপন। মামলা চলে বারাসাত আদালতে। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীদের মধ্যে অন্যতম ছিল মৃতার কন্যা। দীর্ঘ আট বছর মামলাটি চলার পর সমস্ত দিক বিচার বিবেচনা করে রিপনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন বিচারক পরাগ নিয়োগী। ওই মামলার সরকারি আইনজীবী শ্যামল কান্তি দত্ত জানান, স্ত্রীকে হত্যার অপরাধে দোষীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড সহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা পাশাপাশি, বধূ নির্যাতন মামলায় ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। অনাদায়ে ৬ মাস অতিরিক্ত কারাদণ্ড হবে। সবকটি সাজাই একসঙ্গে চলবে। মায়ের উপর নির্মম অত্যাচার করে হত্যা করার দীর্ঘ ৮ বছর পর দোষী পিতা এহেন শাস্তি পাওয়ায়, স্বস্তির শ্বাস নিল ১৬ বছরের মাতৃহারা কন্যা।

About Author

error: Content is protected !!