কলকাতায় উদ্ধার বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, ধৃত ২
বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ
কলকাতায় উদ্ধার বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। বারবার তিলোত্তমার বুকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনের। জনসাধারণের মনে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। সূত্র অনুযায়ী হানা দিয়ে দুটি ৭ এমএম বন্দুক, ২ টি ভর্তি ও ১ টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি সম্প্রচারিত হতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারনের মনে। শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতার জেবিএস হ্যালডেন অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই যুবক বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ করছে, এই মর্মে শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে কলকাতার প্রগতি ময়দান থানার পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স অর্থাৎ এসটিএফ এর কাছে খবর আসে। এরপর ওই রাতেই অভিযানে নামে এসটিএফ। সূত্র অনুযায়ী হানা দিয়ে ওই রাতেই সন্দেহজনক ২ যুবককে আটক করে তল্লাশি চালায় আধিকারিকেরা। তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র। এরপরই মালদহের কালিয়াচক থানার নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা ২৬ বছরের মোবারক হোসেন ওরফে সাহেব শেখ এবং ২৫ বছরের আব্রাহিম শেখ নামক ওই ২ যুবককে, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করে এসটিএফ। ধৃত মোবারক এর থেকে একটি ৭ এমএম পিস্তল ও ২ টি ভর্তি কার্তুজ এবং আব্রাহিমের থেকে ১ টি খালি কার্তুজ ও ১ টি পিস্তল পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। কিন্তু ওই বেআইনি অস্ত্র তাঁরা কেন সঙ্গে রেখেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, আরও পিস্তল ধৃতদের কাছে আসার কথা ছিল। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলি অন্যত্র পাচার করতে গিয়েই তাঁরা এসটিএফ এর হাতে ধরা পড়ে যায়। কিন্তু বিষয় হল- সামনেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রামনবমী। তার প্রাক মুহূর্তে তিলোত্তমার বুকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বিচলিত জনসাধারণ। খোদ তিলোত্তমার বুকে কেন অহরহ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়ে চলেছে, তবে কি উক্ত দিনে তিলোত্তমার বুকে কোনও বড়সড় অশান্তি বা নাশকতার ছক কষা হচ্ছে, ধৃতরা কেন অস্ত্র মজুদ করছিল, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র তাঁরা কোথা থেকে পেয়েছে, ধৃতরা কতদিন যাবত ওই কাজে যুক্ত, কোনও গ্যাংয়ের সাথে তাঁরা যুক্ত কিনা, তাঁদের এহেন কর্মের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের মদত রয়েছে কিনা, মালদা জেলায় কোনও অপরাধ মুলক কাজের সঙ্গে ধৃতরা যুক্ত কিনা, তাঁদের ওই কর্মকাণ্ডের সাথে আর কে বা কারা কিভাবে যুক্ত, উঠেছে এমনই নানান প্রশ্ন। ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলা রুজু করে, আদালত মারফত নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্ত সাপেক্ষে সমস্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।