অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার
বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ
অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অপহৃত ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার পেট্রাপোল থানার অন্তর্গত হরিদাসপুর এলাকার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বনগাঁর পেট্রাপোল থানার হরিদাসপুর এলাকার বাসিন্দা আলমগীর মুন্সি নামে এক ব্যাক্তি বেশ কিছুদিন যাবত কর্ম সংস্থানের চেষ্টা করছিল। একদিন আচমকা বনগাঁর হরিদাসপুরের বাসিন্দা সাদ্দাম মন্ডলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। উভয়ের মধ্যে বাক্য বিনিময়ও চলতে থাকে। এরপর কাজ দেবার নাম করে আলমগীরকে শিলিগুড়ি নিয়ে যায় সাদ্দাম। সেখানে সুমন বর্মন ও সুজন বর্মন নামে দুই ব্যক্তির কাছে তাঁকে রেখে চলে যায় সে। পরবর্তীতে আবার ওই দুই ব্যক্তি তাঁকে কোচবিহারে একরামুল হক নামে এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যায়। সেখানে একটি মাছের ভেড়িতে তাঁকে কাজে লাগানো হয়। সেখানে কয়েকদিন কাজ করার পর বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বাড়ি ফিরতে না দেওয়ায় হতবাক হয়ে পড়ে আলমগীর। এরপর কোচবিহার থেকে ওই ব্যাক্তির বাড়িতে ফোন করে জানানো হয়- “আলমগীরকে অপহরণ করা হয়েছে, তাঁকে ফিরে পেতে গেলে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে”। ফোন পেয়ে সাত-পাঁচ না ভেবে, ওই ব্যাক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে বনগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সূত্র মারফত অপহৃতের অবস্থান জানতে পারে বনগাঁ থানার পুলিশ। সেই অনুযায়ী বনগাঁ থানার পুলিশ রবিবার কোচবিহার পৌঁছে স্থানীয় পুলিশকে সাথে নিয়ে একরামুল হকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে। সোমবার ওই অপহৃত ব্যাক্তিকে বনগাঁয় নিয়ে এসে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। ঘটনায় পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করছে বলে জানায় পুলিশ।