নার্সিংহোমের আড়ালে পাসপোর্ট জালিয়াতি কান্ড

নার্সিংহোমের আড়ালে পাসপোর্ট জালিয়াতি কান্ড

বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ
পাসপোর্ট জালিয়াতি কান্ডের তদন্তে একের পর এক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানোর ঘটনা রাজ্যে নতুন নয়। তবে বিরাটি, কাটোয়ার পর পাসপোর্ট জালিয়াতি কান্ডে এবার নাম জড়িয়েছে বাসন্তীর। ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র বানিয়ে পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগ ওঠে এক বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমে সেই বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্নধারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং মহকুমার গোসাবা থানার অন্তর্গত পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গোসাবার পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভুয়ো পাসপোর্টের সন্ধান মেলে। কিন্তু যাঁদের পাসপোর্ট এর আবেদন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তাদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর। অভিযোগের ভিত্তিতে সেই পাসপোর্ট জালিয়াতি কান্ডের তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়ে হতবাক তদন্তকারীরা। বিষয়টি হল- ভারতীয় নাগরিক হলেই একজন আবেদনকারী পাসপোর্টের আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রমাণস্বরূপ জন্ম শংসাপত্র জমা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দেখা যায়, গোসাবা এলাকায় ইস্যু করা জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র মারফত অনেকেই পাসপোর্ট করেছেন। তখনই প্রশ্ন ওঠে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি হয়েছে কোথা থেকে? তদন্ত মারফত জানা যায়,
ক্যানিং মহকুমার বাসন্তী থানার অন্তর্গত রামচন্দ্রখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাখালি এলাকায় ৩-৪ বছর আগে চালু হয়েছিল একটি নার্সিংহোম। যেখানে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরি করে, ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করা কোনও ব্যাপারই ছিল না। ওই নার্সিংহোমে তৈরি করা হত ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র। এরপর সেটি সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হত। মুহূর্তেই বৈধতা পেয়ে যেত সেই ভুয়ো নথি। তা দিয়েই তৈরি হত পাসপোর্ট। ওইরূপ ঘটনায় তদন্তকারীদের নজরে আসে গৌতম সর্দার নামে পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের একজন অস্থায়ী কর্মী। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই নার্সিংহোমের কর্ণধার রহমতুল্লাহ মোল্লার নাম সামনে আসে। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালত মারফত ধৃত রহমতুল্লাহকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নার্সিংহোমটির কোনও রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা,
চিকিৎসা পরিসেবার আড়ালে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির কাজ কবে থেকে শুরু হয়েছে, সরকারি ওয়েবসাইটে কি করেই বা জাল জন্ম শংসাপত্র আপলোড করা হত এবং তা বৈধতা পেত, এতদিন যাবত মোট কত সংখ্যক জাল জন্ম শংসাপত্র তৈরি করা হয়েছে সেখান থেকে, ওই অবৈধ কার্যকলাপে আর কে বা কারা কিভাবে যুক্ত, ওই চক্রের মুল পান্ডাই বা কে, ওই কার্যকলাপের মাধ্যমে কোনও নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল কিনা, উঠেছে এমনই নানাবিধ প্রশ্ন। তদন্ত সাপেক্ষে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানায় পুলিশ।

About Author

error: Content is protected !!