আবাস যোজনা প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে আটক ১

আবাস যোজনা প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে ধৃত ১

বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ
আবাস যোজনার ঘর নিয়ে বিপুল সমস্যার সম্মুখীন মানুষ। পূর্বে আবাসের ঘর নিয়ে ব্যপক দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে আবাসের ঘর পাওয়ার উপযুক্তদের বদলে নানান উপায়ে ঘর পেয়েছে অনুপযুক্তরা। এ নিয়ে দিকে দিকে দফায় দফায় আন্দোলন করেছে মানুষ। বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর পুনরায় শুরু হয় আবাসের ঘর তৈরীর কাজ। এবারও আবাসের ঘর তৈরী নিয়ে প্রকাশ্যে আসে দূর্নীতির অভিযোগ। ঘরের বদলে বলপূর্বক আবাস যোজনার অর্থ থেকে কাটমানি নেবার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার গোপালনগর থানার আকাইপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এক ব্যাক্তির আবাস যোজনায় পাওয়া টাকা থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আকাইপুরের এক সাইবার ক্যাফের মালিক অনুপ রায়ের বিরুদ্ধে। আকাইপুর বাজারে থাকা তাঁর দোকান থেকে অনলাইনে টাকা তোলা ও জমা দেওয়ার কাজ চলে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ওই এলাকার বাসিন্দা নিমাই সরকার নামে এক ব্যাক্তির অভিযোগ, তিনি আবাসের ঘর প্রাপক। সম্প্রতি ঘর তৈরির জন্য তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা ঢুকলেও ওই টাকা তুলে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত অনুপ রায় তাঁর ঘরের কাজ করিয়ে দিয়েছেন, এমনই মিথ্যে বলে নিমাই সরকারের কাছ থেকে বলপূর্বক ২০ হাজার টাকা নেয়। টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত তা দিতে অস্বীকার করায় নিমাই বাবু গোপালনগর থানার দ্বারস্থ হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে গোপালনগর থানার পুলিশ ওই সাইবার ক্যাফের মালিক অনুপ রায়কে গ্রেফতার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি, পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে গোপালনগর থানার পক্ষ থেকে রবিবার ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে, তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃত এমন ধরনের কাজ পূর্বে আর করেছে কিনা, কেনই বা এমন কাজ সে করতে গেল, তাঁর ওই কর্মের সাথে আর কেউ কোনওভাবে যুক্ত আছে কিনা, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এহেন ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কথায়, এমন কাজ তৃণমূলের মদত ছাড়া সম্ভব নয়। এর পিছনে তৃণমূলের হাত অবশ্যই রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বনগাঁ সংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বিজেপির করা অভিযোগকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, নিমাই দাস বাড়ি করার জন্য ৬০ হাজার টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তোলার পর, অভিযুক্ত তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়। অভিযুক্ত আগেও টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশীদের ভোটার লিস্টে নাম তুলে দিয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টা তদন্ত করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পের অর্থে কেউ হস্তক্ষেপ করলে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

About Author

error: Content is protected !!