*কাশ্মীরে জঙ্গিহামলা,২৬ হাজার চাকরি বাতিল এর প্রতিবাদ ও ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে কুলপি দয়ারামপুরে প্রতিবাদ সভায় আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী*
*বাইজিদ মন্ডল কুলপি:-* কাশ্মিরের পাহেলগাঁওয়ে বর্বরোচিত সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রতিবাদে,রাজ্যে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল ও ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার কুলপি থানার দক্ষিন গাজীপুর দয়ারামপুরে এক প্রতিবাদ সভা করেন আই,এস,এফ। এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত হয়ে আইএসএফ চেয়ার ম্যান তথা ভাঙ্গরের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী তিনি বলেন কিছুদিন আগে কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে যে নৃশংস ঘটনা ঘটে গেল, সেটা কেন্দ্রীয় সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে নেয়, নোট বন্দী করেও কোন কাজের কাজ হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীনগরে গিয়ে এই মাসের গোড়ায় বলে এসেছিলেন, কাশ্মীর নাকি ভাল আছে। এই তার ভাল থাকার নমুনা? কেন্দ্রের এই ব্যর্থতা ঢাকতে তাই বিজেপি সরকার মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ কিভাবে তৈরি করা যায়, সেই অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এই রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব অসাংবিধানিক কথাবার্তা বলছে। অথচ তার বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন প্রতিক্রিয়া নেই। এবং ছয় বছর আগে পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলার তদন্তের রিপোর্ট দিনের আলো মতো পরিষ্কার,কেন এখনো দেখল না, সেই প্রশ্ন করে যাবে আইএসএফ। আর ঐ প্রশ্ন করছে বলেই আইএসএফ’কে সাম্প্রদায়িক দল বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরের পরিপূরকের কাজ করছে।এই প্রতিবাদ সভা থেকে ওয়াকফ সংশোধনী আইন বিজেপি’র মিথ্যাচারিতা যখন আমরা ব্যখ্যা করে মানুষের সামনে তুলে ধরছি এবং ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করছি, তখন তৃণমূল পুলিশের দাড়ায় বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা লড়ছি বিজেপি’র বিরুদ্ধে অথচ তৃণমূল কিছু কিছু নেতার কষ্ট হচ্ছে। এটা বুঝে নিতে অসুবিধা নেই যে এদের এই বোঝাপড়া শুধুমাত্র নিজেদের পিঠ বাঁচানোর তাগিদে করা হচ্ছে। ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই সংবিধান বাঁচানোর লড়াই। এই লড়াই কোন একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর লড়াই নয়। ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক শক্তিকে এই লড়াইয়ে সামিল করতে হবে। অন্য এক প্রসঙ্গে নওসাদ সিদ্দিকী ২৬ হাজার চাকরি বাতিল,তাদের সুবিচারের দাবিতে সোচ্চার হন। এদিন সম্প্রতি পাহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীদের বর্বরোচিত আক্রমণে নিহতদের স্মরণ করে তিনি এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের অপদার্থতার কথা তুলে ধরেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি’র তীব্র বিভাজনের অপচেষ্টারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। আইএসএফ এই ধরণের কর্মসূচি করলেই সবরকমের অসহযোগিতা কথা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সুতরাং এই দুটি দলকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য বিভেদের বীজ না বুনে এই প্রশ্নটা করা দরকার যে নিরাপত্তার এত আয়োজনের পরেও কি করে দীর্ঘ সময় ধরে ঐ হত্যালীলা চলল? দায়িত্ব এড়িয়ে না গিয়ে এই গাফিলতির দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্কে নিতে হবে। সাম্প্রতিক পাহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় নিহতদের স্মরণে,২৬ হাজার চাকরি বাতিল, দুর্নীতি ও বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ সভা।