বাংলা ভাষায় কথা বলার পরিনতি- মৃত্যু
বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ
বাংলা ভাষায় কথা বলার কারনে মুম্বাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর, জেলে অত্যাচারিত হয়ে বাড়ি ফিরে আসে এক পরিযায়ী শ্রমিক। এরপর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনায় পুলিশের নির্মমতার দিকে আঙুল ওঠে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার হাবরা থানার অন্তর্গত আনোয়ারবেড়িয়া এলাকার ঘটনা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, হাবরার আনোয়ারবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম মন্ডল কর্ম সূত্রে মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে গিয়ে, পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে বাংলায় কথা বলার কারনে সম্প্রতি তাঁকে বাংলাদেশী সন্দেহে গ্রেপ্তার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। এরপর জেলে রেখে তাঁর উপর নির্মম অত্যাচার করা হয়। খাবার বলতে তাঁকে কেবল পাও বা সিঙারা আর দেওয়া হত জল। আতঙ্কে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল সে। এরপর দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ নামে একটি সংগঠন, যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে- তাঁরা ওই গোলাম মন্ডলকে জেল থেকে উদ্ধার করে। গণমঞ্চের সদস্যদের পক্ষ থেকে করা একটি সাংবাদিক সম্মেলনে গোলাম জানিয়েছিলেন, তাঁর উপর মহারাষ্ট্র পুলিশের অত্যাচার, হেনস্তার কথা। পরবর্তীতে তিনি হাবরার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। বাড়িতে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে হিসেবে ছিলেন ওই গোলাম। কিন্তু বাড়ি ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। ৪ দিন পর সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেও আসেন। রবিবার পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে, কচুয়ার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গোলামকে বারাসাত হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসক। সেখান থেকে তাঁকে আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু আরজি কর এর আইসিইউ-তে বেড ফাঁকা না থাকায় তাঁকে বারাসাত হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে অর্থাৎ রাত দুটো নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে-র মৃত্যুর পরই পরিবার ও এলাকায় নামে শোকের ছায়া। পুলিশের অত্যাচারের জন্য ওই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, এমনই অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের প্রতিনিধিরা মৃতের পরিবারের সাথে দেখা করে। পাশাপাশি, ওই পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং মৃতের ছেলেকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাসও দেন তাঁরা।